রোহিতের আগে ‘জি’ যোগ করলেন শোয়েব

0
16
বিশাখাপট্টনাম টেস্টে আজ দ্বিতীয় দিনে ১৭৬ রান করে আউট হয়েছেন রোহিত শর্মা। টেস্টে প্রথমবারের মতো ওপেন করতে নেমে রোহিত সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ায় তাঁকে একটি তকমা দিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার

শোয়েব আখতার মনে করেন, রোহিত শর্মা নামটির মধ্যে ইংরেজি ‘জি’ বর্ণটির কমতি আছে। ভারতের এ ব্যাটসম্যান ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’-এর কাছে ‘জিআরএস’। মানে ‘গ্রেট রোহিত শর্মা’। কাল বিশাখাপট্টনাম টেস্টে প্রথমবারের মতো ওপেন করতে নেমে সেঞ্চুরি তুলে নেন রোহিত। ইনিংসটিতে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে এ তকমা দিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি এ পেসার। টেস্টে আঙিনায় রোহিত এ তকমার মান রাখতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত এটুকু বলা যায়, সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ‘হিটম্যান’ তকমা পাওয়া কোনো ব্যাটসম্যান টেস্টে প্রথমবারের মতো ওপেন করে এমন ইনিংস খেললে তাঁকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখাই যায়।

রোহিত শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন। কথাটা এভাবে বলার কারণ, কাল টেস্টের প্রথম দিনে ভারতের দুই ওপেনারকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজ বিরতির ৬ ওভার আগে তাঁকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন কেশব মহারাজ। আগের দুই বলে ছক্কা ও চার তুলে নিয়ে একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন রোহিত। পরের বলটি সামনে এগিয়ে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে ফাঁদে পড়েন ফ্লাইট ও বাঁকের। আউট হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে হাত মেলান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। কাল থেকে আজ প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় প্রোটিয়াদের হাড়ভাঙা খাটুনি গেছে রোহিতকে আউট করতে। শেষ পর্যন্ত সফল হলেও রোহিতকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি ডু প্লেসি।

২৪৪ বলে ১৭৬ রানের এ ইনিংসে নিশ্চিতভাবেই ডাবল সেঞ্চুরির সুবাস ছিল। আরেকটু ধৈর্য ধরলেই হয়তো হয়ে যেত। ডাউন দ্য উইকেটে আসার ‘অভ্যাস’টি সম্ভবত সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ফসল। সে যা–ই হোক, টেস্টে ভারতীয়দের মধ্যে স্টাম্পিংয়ের শিকার হওয়া সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি এখন রোহিতের। মজার ব্যাপার, ২০১৩ সালে টেস্টে অভিষেকেই ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রোহিত। এবার টেস্টে ওপেনার হিসেবে অভিষেকে খেললেন আরও একটি দেড়শোর্ধ্ব রানের ইনিংস।

আর এ ইনিংসটি খেলার সময় রোহিত টপকে গিয়েছেন ডন ব্র্যাডম্যানের এক কীর্তি। ব্যাটিংয়ে তর্কযোগ্যভাবে ব্রাডম্যানই শেষ কথা। অস্ট্রেলিয়ান এ কিংবদন্তিকে ঘরের মাঠে টেস্ট ব্যাটিং গড়ে পেছনে ফেলেছিলেন রোহিত। সেটি অবশ্য আউট হওয়ার আগে। আউট হওয়ার পর ব্র্যাডম্যানের (৩৩ ম্যাচে ৯৮.২২) পেছনেই আছেন রোহিত (১০ ম্যাচে ৯৪.৫০)। এ হিসাবটি ঘরের মাঠে ন্যূনতম ১০ ম্যাচ খেলেছেন, তা বিচারে।

ওপেনিং জুটিতে অন্য প্রান্তে সেঞ্চুরি তুলে নেন মায়াঙ্ক আগারওয়ালও। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ উইকেটে ৩২৪ রান তুলেছে ভারত। ১৩৮ রানে ব্যাট করছেন আগারওয়াল। ওপেনিং জুটিতে ৩১৭ রান তুলেছেন রোহিত ও আগারওয়াল। ভারতের হয়ে যেকোনো উইকেট মিলিয়ে এটি নবম সর্বোচ্চ রানের জুটি। তবে দুই অভিষিক্ত (রোহিত-আগারওয়াল) ওপেনিং জুটি বিবেচনা করলে এটি ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০০৬ সালে ওপেনিংয়ে অভিষিক্ত জুটি হিসেবে ৪১০ রান তুলেছিলেন বীরেন্দর শেবাগ ও রাহুল দ্রাবিড়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে