ম্যাচসেরা ম্যালান বলছেন, সৌম্যই ম্যাচসেরা

39

‘ক্রিকেটের কোন নিয়মে আজ ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচন করা হলো?’—ফেসবুকে এমনই এক প্রশ্ন করেছেন এক দর্শক।

১৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স সিলেট থান্ডারকে অনায়াসে হারিয়েছে ডেভিড ম্যালান আর সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। ৫৮ রান করা ম্যালান যখন ফিরে গেছেন তখনই কুমিল্লার দরকার ছিল ২৫ বলে ৩৮ রান। দলকে স্বচ্ছন্দে জয়ের প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে সৌম্যর অপরাজিত ৫৩ রান। অথচ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান যখন নেমেছিলেন দল তখন ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে। নিজের ফিফটি পূর্ণ আর দলের জয় নিশ্চিত করেছেন বাউন্ডারি মেরে।

এমন একটা ইনিংস খেলার পরও সৌম্যর হাতে ওঠেনি ম্যাচসেরার পুরস্কার। পুরস্কারটা পেয়েছেন ম্যালান। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা (এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক) এই ইংলিশ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নিজেও অবাক হয়েছেন সৌম্যকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার না দেওয়ায়, ‘সে অসাধারণ খেলেছে। আমার দৃষ্টিতে ও ম্যান অব দ্য ম্যাচ। আজ যেভাবে সে খেলেছে, একমাত্র সৌম্যই ১২০-৩০ কিংবা তারও বেশি স্ট্রাইকরেট ধরে রেখে এগিয়েছে। কঠিন সময়ে সে নেমেছিল। আমরা তখন ভীষণ চাপে, ওভার পিছু উঠেছে ৪ রান করে। এ সময় সে পরিণত এক ইনিংস খেলেছে।’

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে সৌম্যকে প্রায়ই নামতে হচ্ছে চার-পাঁচে। অনভ্যস্ত এই পজিশনে যেভাবে তিনি ব্যাটিং করে যাচ্ছেন, এ থেকে সৌম্য অনেক কিছু শিখছেন বলে মনে করেন ম্যালান। কুমিল্লার ইংলিশ অধিনায়ক মুগ্ধ সৌম্যর ক্রিকেটবোধ আর উন্নতি দেখেও।

সৌম্যর উন্নতির কথা যেমন বললেন, ম্যালান ব্যাখ্যা দিলেন সাব্বির কেন ছিলেন একাদশের বাইরে। কুমিল্লা অধিনায়কের সঙ্গে আজ সকালে সাব্বিরকে নিয়ে কথা হয় দলের টেকনিক্যাল উপদেষ্টা মিনহাজুল আবেদীনের। আজ বাদ দিলেও ম্যালান মনে করেন, নিজের দিনে এই সংস্করণে সাব্বির বাংলাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু এ ধরনের টুর্নামেন্ট ছন্দে না থাকলে কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। তবুও ম্যালানের আশা, সাব্বির ছন্দে ফিরবেন দ্রুত, ‘আশা করি সে এর চেয়ে ভালো করবে। নিজের ভুল থেকে শিখবে। এমন নয় যে খারাপ খেলছে, সে আসলে ইনিংস লম্বা করতে পারছে না। এটা হয়। গত বছর এই সময় আমিও রান করতে পারিনি। ক্রিকেট এমনই।’