বসুন্ধরার শিরোপা জয়

30

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। এটি ছিল ফেডারেশন কাপের ৩১তম আসর। ম্যাচটিতে বসুন্ধরার হয়ে দুটো গোলই করেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস। অপরদিকে রহমতগঞ্জের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মোমুদু বাহ।
ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল রহমতগঞ্জ। অপরদিকে বসুন্ধরার ছিল এটি টানা দ্বিতীয় ফাইনাল। গত বছরের ফাইনালে ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে হেরে তাদের রানার্সআপের শিরোপা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় শিরোপাটি নিজেদের করে নিল কোচ অস্কার ব্রুজেনের শিষ্যরা।
বসুন্ধরা তাদের প্রথম গোলটি পায় ৪১ মিনিটের মাথায়। এই এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা। কিন্তু এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটের মাথায় অধিনায়ক মোমুদু বাহের গোলে সমতা পায় রহমতগঞ্জ। কিন্তু ৭৬ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক হেডে বসুন্ধরাকে আবার লিড এনে দেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস। এরপর দুদলের আর কেউ গোল করতে না পারলে ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বসুন্ধরার এই ম্যাচটি জয়ে বড় ভ‚মিকা রাখেন গোলরক্ষক। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় রহমতগঞ্জ প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিল। কিন্তু গোলরক্ষকের প্রচেষ্টায় একদম নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় তপু-কলিন্দ্রেসরা। তা ছাড়া বসুন্ধরাও বেশ কয়েকটি সুযোগ পায়। দুদলের পুরো ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যখন রহমতগঞ্জ সমতা পায় তখন দুদলই আবার গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে সেই প্রচেষ্টায় সাফল্য পায় শুধু বসুন্ধরাই।
এবারের আসরে হঠাৎ করেই যেন চমক দেখানো শুরু করে রহমতগঞ্জ। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা আসে অনেকটা ভাগ্যজোরে। তাদের চমকটা শুরু হয় কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে। ঢাকা আবাহনী শুধু ফেডারেশন কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নই ছিল না তারা এই প্রতিযোগিতাটির হ্যাটট্রিক শিরোপাধারী ছিল। এরপর পুরান ঢাকার ক্লাবটি সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। সেমিতে মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে আসে তারা। ফাইনালেও চমকের ধারা অব্যাহত রেখেছিল তারা। বসুন্ধরা ম্যাচটি জিতলেও তাদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে।
এদিকে ম্যাচটিতে দুর্দান্ত খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন বসুন্ধরার তপু বর্মণ। আর পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন বসুন্ধরার শিরোপা জয়ের নায়ক অধিনায়ক কলিন্দ্রেস। তিনি বসুন্ধরার হয়ে ফাইনালসহ ৬টি ম্যাচ খেলে ৩টি গোল করেন। অপরদিকে পুরো আসরে সর্বোচ্চ ৪টি গোল করেছেন নবাগত বাংলাদেশ পুলিশ দলের সিডনি রিভেরা।
চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বসুন্ধরা পেয়েছে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার। রানার্সআপ দল রহমতগঞ্জ পেয়েছে ৩ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতায় ফ্লেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।