প্রতি চার বৎসর পর পর জন্মদিন পালন করতে হয় নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদকে

14
শুভ জন্মদিন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ

আজকের তারিখটা অন্য তারিখের চেয়ে আলাদা,কেননা আজ ২৯ ফেব্রম্নয়ারি যা প্রতি চার বৎসর পর পর একবার আসে,তাই তারিখটা একটু আলাদা।

দেশের স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রম্নয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এ নাট্যব্যক্তিত্ব। ২৯ ফেব্রম্নয়ারিতে জন্ম হওয়ার সুবাদে প্রতি চার বছর পর পর তার জন্মদিন আসে। এ কারণে প্রতিটি জন্মদিনই বিশেষ হয়ে ওঠে তার।নিজের জন্মদিন নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘চার বছর পর পর জন্মদিন আসে আমার জীবনে। চার বছর জন্মদিনের আনন্দ না পাওয়ার যে আক্ষেপ, সেটি অনন্য হয়ে আসে, যখন জন্মদিন পাই। আপনাদের এত ভালোবাসার যোগ্য আমি কিনা, জানি না। দোয়া করবেন সব সময় যেন আপনাদের এই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে যেতে পারি।’

মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।স্বাধীনতা ত্ত বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃত। তার নাট্যকর্মে প্রখর সমাজ সচেতনতা লক্ষনীয়। শ্রেণী সংগ্রাম তার নাটকের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। তিনি টিভির জন্যেও অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যূ নিয়ে, শ্রেণী সংগ্রাম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলন নিয়ে নাটক রচনা ও নাট্য পরিবেশনা বাংলাদেশের নাট্য জগতে মামুনুর রশিদকে একটা আলাদা স্থান করে দিয়েছে।১৯৬৭ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখতে শুরু করেন যার বিষয়বস্তু ছিল মূলত পারিবারিক। সেসময় কমেডি নাটকও তিনি লিখতেন। নাট্যশিল্পের প্রতি তার প্রকৃত ভালবাসা শুরু হয় টাঙ্গাইলে তার নিজ গ্রামে যাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে তার নিবিড় পরিচয়ের সূত্র ধরে। তার যাত্রার অভিনয় অভিজ্ঞতা তার নাট্যভাবনাকে খুবই প্রভাবিত করেছিল। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং জড়িত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি তার প্রথম রচিত নাটক “পশ্চিমের সিঁড়ি”।

মামুনুর রশীদের জন্মদিন উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘দ্রোহ দাহ স্বপ্নের নাট্য আয়োজন’ শিরোনামের ছয় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ উৎসবে মামুনুর রশীদ রচিত পাঁচটি নাটকের মঞ্চায়ন হবে।