নবীজির ভালোবাসায় মোমিন

33

আমরা ছিলাম ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত। ছিলাম হেদায়েতের পথ থেকে দিকভ্রান্ত। অতঃপর হেদায়েতের আলোকবর্তিকা হয়ে রাসুল (সা.) এলেন আমাদের জীবনে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতগুলো, তাদের পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতঃপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।’ (সূরা জুমা : ২)। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ‘নবী মোমিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ।’ (সূরা আহজাব : ৬)।
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এ আয়াতের তাফসিরে লিখেন ‘আল্লাহ তায়ালা এ কথা জানাচ্ছেন যে, তাঁর রাসুল (সা.) উম্মতের জন্য নিজের জীবন থেকেও বেশি দয়ালু ও কল্যাণকামী। এজন্য তিনি রাসুলকে তাদের ওপর তাদের জীবন অপেক্ষা বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। রাসুল (সা.) এর দেওয়া নির্দেশ তাদের নিজেদের নেওয়া সীদ্ধান্ত অপেক্ষা অগ্রগণ্য করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, তারা কখনই ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো ধরনের সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।’ (মুখতাছার তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/৮২)।
রাসুলের ভালোবাসার পথে কোনোকিছু যেন বাধা না হয় : বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, অর্থসম্পদ, ঘরবাড়ি, জমি-জায়েদাদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবই আল্লাহর নেয়ামত। তবে ততক্ষণ, যতক্ষণ এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসার পথে বাধা না হবে। যদি বাধা হয়; তবে এসব জিনিসই আজাবের কারণ হবে।
যাদের কাছে এসবের ভালোবাসা আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসার চেয়েও বেশি আল্লাহ তায়ালা তাদের ভীতিপ্রদর্শন করে এরশাদ করেছেন ‘বলুন, তোমাদের কাছে যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং তাঁর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের পুত্র, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের খান্দান, তোমাদের সেই সম্পদ, যা তোমরা অর্জন করেছ, তোমাদের সেই ব্যবসা, যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা কর এবং বসবাসের সেই ঘর, যা তোমরা ভালোবাস; তবে অপেক্ষা কর, যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ ফয়সালা প্রকাশ করেন। আল্লাহ অবাধ্য লোকদের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছান না।’ (সূরা তওবা : ২৪)।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেন ‘অর্থাৎ যদি এসব জিনিস তোমাদের কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) থেকে এবং তাঁর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা বেশি পছন্দনীয় হয়, তাহলে আল্লাহর আজাব ও শাস্তির জন্য অপেক্ষা করো।’ (মুখতাছার তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/১৩১)।
আল্লামা আবদুুর রহমান আস-সাদি (রহ.) বলেন ‘আল্লাহ ও রাসুলকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে উল্লিখিত আয়াতটি সর্বোচ্চ দলিল। একই সঙ্গে (আয়াতে) বর্ণিত জিনিসগুলোর ভালোবাসা যার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা, রাসুল (সা.) এবং তাঁর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা বেশি হবে তার ব্যাপারে (ওই আয়াতটি) কঠিন হুঁশিয়ারি ও ধমকি।’ (তাফসিরে সাদি : ১/৩৩২)।