টাকা না দেওয়ায় বই পায়নি শিশুরা, কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির পথে

18

টাকা দিতে না পারায় স্কুল থেকে নতুন বই দেওয়া হয়নি। বই না পেয়ে কান্না করতে করতে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। সেশন ফির অজুহাতে বই উৎসবের দিনেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।

এ ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। এর জের ধরে শনিবার দুপুর ২টার দিকে ছাত্র ও অভিভাবকরা ঐ বিদ্যালয়ে হাজির হন। তারা বই না দেওয়ার কারণ জানতে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় অন্যান্য শিক্ষকরা ঘটনাটি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন।

বিদ্যালয়ের ছাত্র ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল সেশন ফি জমা ছাড়া নতুন বই দিচ্ছেন না। যেসব শিক্ষার্থীরা ওই টাকা জমা দিচ্ছেন শুধুমাত্র তাদের হাতেই একটি স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছেন। এরপর শ্রেণি শিক্ষকের কাছে গিয়ে ঐ স্লিপ জমা দিলে বই দেওয়া হয়। আর যেসব ছাত্ররা টাকা দিতে পারেনি তাদেরকে বই না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেশন ফির অজুহাতে ছাত্রদের বই না দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার বলেন, ঐ স্কুলে বই উৎসবে আমার থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্কুলে গিয়ে একজন শিক্ষক ছাড়া কাউকেই পাইনি। আর সেশন ফি বই উৎসবের দিন কেন নেবে এটা তো পরেও নেওয়া যায়।