ক্যাসিনোয় জড়িত ক্লাবগুলো খেলোয়াড় হারাচ্ছে

0
30

২০১৮ সালে প্রথম কোনো বড় শিরোপা জেতার আনন্দ আরামবাগের। ফাইল ছবি: বাফুফে২০১৮ সালে প্রথম কোনো বড় শিরোপা জেতার আনন্দ আরামবাগের। ফাইল ছবি: বাফুফে

গতকাল শুরু হয়ে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের দলবদল। ফুটবলের দলবদলে প্রভাব পড়েছে চলমান ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই আলোচনায় ঢাকার ক্লাবপাড়া। তবে খেলা নয়, ক্যাসিনো-কাণ্ডের জন্য। ক্লাবগুলোয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রভাব ভালোই পড়েছে ফুটবলের দলবদলে। নতুন মৌসুমে শক্তিশালী দল গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। কিন্তু ক্যাসিনো–কাণ্ডের জের ধরে এখন আর তারা ভালো দল গড়তে পারবে না বলে মনে করছেন অনেকে। নতুন মৌসুমে আরামবাগে যাঁদের খেলার কথা ছিল, ইতিমধ্যে সেই খেলোয়াড়েরা অন্য দলে নাম লেখাতে শুরু করেছেন। গ্যাঁড়াকলে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেডও।

প্রায় সব ক্লাবেই তাস দিয়ে জুয়া খেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই জুয়া থেকে আসত প্রতিদিনের খরচের বড় একটা অংশ। ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর এখন বলতে গেলে সব ক্লাবেই তাস খেলা বন্ধ। কোনো কোনো ক্লাব কর্মকর্তার দাবি, এতে তাঁদের বাজার করাও নাকি বন্ধ হয়ে গেছে! অন্য ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের এই তিন ক্লাব থেকেও অবৈধ ক্যাসিনো উচ্ছেদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিন ক্লাবেই এখন নেতৃত্বের পালাবদলের সুর বইছে।

মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া র‍্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর ক্লাবটির সাবেক ফুটবলার ও কর্মকর্তারা সরব হয়ে উঠেছেন। তাঁরা লোকমানের বহিষ্কার চান। আদালতের আদেশে একজন অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি আছেন, যাঁর দায়িত্ব দ্রুত ক্লাবের নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবটি কীভাবে চলবে, ফুটবল দল কারা গঠন করবেন, এসব বলা কঠিন। মোহামেডানের সাবেক ফুটবলাররা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো দল গড়বে না, এটা কীভাবে হয়! তাঁরা দলবদলের জন্য আরও কিছুদিন সময় চান। ক্লাবটির সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘মোহামেডান দলবদলে অংশ নেবে। নতুন মৌসুমের জন্য দলও গড়বে।’

মোহামেডানের ঢিল–ছোড়া দূরত্বে থাকা আরামবাগের সভাপতি মমিনুল হক ওরফে সাঈদ দেশের বাইরে। ক্লাব সভাপতির অনুপস্থিতিতে আরামবাগ নতুন দল কীভাবে গড়বে, সেটা একটা প্রশ্ন। আরামবাগের কোচ মারুফুল হক মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমরা তো একটা দল করেই রেখেছিলাম। ১০ ভাগ করে টাকাও দেওয়া হয়েছে গত ঈদের আগে। চুক্তি অনুযায়ী দলবদলের আগে ৫০ ভাগ টাকা দিতে হবে। এখন বাকি ৪০ ভাগ টাকা দিতে না পারলে ফুটবলাররা অন্য ক্লাবে চলে যেতে পারেন। এরই মধ্যে দুজন চলেও গেছেন। বসুন্ধরায় ফিরে গেছেন সুফিল। বাবলু শেখ রাসেলে।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র নতুন দল গঠনে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। ২২ জন ফুটবলারকে টোকেন মানিও দেয় ক্লাবটি। এর মধ্যে চার-পাঁচজনের চেক ফেরত এসেছে। এই অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত অনেকে। ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত, তিনি হাসপাতালে। সে জন্য কার্যক্রমে আরও ধীরগতি। নাম না প্রকাশের শর্তে কোচিং স্টাফের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ৫০ হাজার বা ১ লাখ করে অগ্রিম টাকাও দেওয়া হয়েছে। এখন দলবদলের সময় অন্তত ৪০ ভাগ দিতে হবে। সেটা কে দেবে?’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অবশ্য বড় বাজেটের দল নয়। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। কেউ কেউ বলছেন, তাঁদের সংকট তাই খুব বড় নয়।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই দলবদল চলবে ৫০ দিন। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবগুলো চাইবে সংকট কাটিয়ে উঠতে। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে সংকট কমার লক্ষণ নেই। বরং এটি বাড়তেই পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে