করোনার ভয়ে শালবনে ফেলে দেওয়া হলো গর্ভধারিনী মাকে

164
ছবি - সংগৃহীত

করোনাভাইরাসতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় গর্ভবতী মাকে টাঙ্গাইলের সখিপুরের শাল-গজারীর বনে রেখে যান। ৫০ বছর বয়সী মাকে রেখে যাবার সময় , তারা বযে যাই “মা তুমি এই বনে এক রাত থাকো, কাল আমরা এসে তোমাকে নিয়ে যাব।

মাকে বনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এই মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, পরে স্থানীয়রা বনের ভিতর থেকে মহিলার কান্না শুনতে পেল। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে উপজেলা প্রশাসন তাকে বন থেকে উদ্ধার করে ঢাকায় প্রেরণ করেন।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এর ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, “সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৮ টার দিকে স্থানীয়রা আমাকে বনের ভিতর থেকে কান্নার শব্দ সম্পর্কে জানায়।” পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজন ওই মহিলাকে দেখতে যান। মহিলাটিকে কীভাবে তার বাচ্চারা তাকে জঙ্গলে ফেলেছিল তার গল্পটি বলেছিল।

জানা যায়, ওই নারীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গাজীপুরের সালনায় একটি পোশাক কারখানায় ওই নারীর এক ছেলে, ২ মেয়ে ও জামাতারা চাকরি করেন। সবাই মিলে সালনায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই নারী সবাইকে রান্না করে খাওয়াতেন। কয়েক দিন ধরে ওই নারীর জ্বর, সর্দি, কাশি শুরু হলে আশপাশের বাসার লোকজন তাদের তাড়িয়ে দেন। একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার পথে সখীপুরের জঙ্গলে সন্তানেরা মাকে ফেলে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হসনা লিজা জানান, তারা তার গর্ভধারিনী মাকে একা একটি গভীর জঙ্গলে ফেল গেল? কী অমানবিক আচরণ করল তার সন্তানেরা। তারা তার গর্ভধারিনী মাকে একা একটি গভীর জঙ্গলে ফেল গেল? কী অমানবিক আচরণ করা হয়। জীবিত অবস্থায় তারা তার মাকে ফেলে গেল। গ্রামবাসী খোঁজ না পেলে রাতের বেলা হয়তো ওই অসুস্থ নারীকে শেয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলত। ইউএনও ওই মহিলার পুত্র এবং কন্যার প্রতি তার ঘৃণা প্রকাশ করেছে, তাঁর ফেসবুক পেজে এই বিবৃতি পোস্ট করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ওই নারীকে উদ্ধারে সখিপুর থানার ওসি ও একদল পুলিশ, হাসপাতালের আরএমও ডা. শাহীনুর আলমসহ চিকিৎসা দল, গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বাররা আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।